গাজীপুরের ভবানীপুর বিট এখন দখলের রাজ্য, বিট কর্মকর্তা নাসির বেসামাল!
ঘটনার আড়ালে প্রতিবেদন : গাজীপুরের ভাওয়াল রেঞ্জের ভবানীপুর বিটের বনভূমি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। দেদারসে চলছে দখল। নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়িঘর ও মার্কেট।
বিষয়টির ওপর ইতোমধ্যে ঘটনার আড়ালে-তে বেশ কয়েকটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সুযোগ পেয়ে বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ২০১৭ সালে এই বিটে কর্মরত ছিলেন। তখনো দখল বাণিজ্য হয়েছে। তিনি সিলেট থেকে বদলি হয়ে এসে প্রথমে বারুইপাড়া বিট ও পরে ভবানীপুর বিটে পুনরায় যোগদান করেন। ভবানীপুর বিটে তার যোগদানের গত দেড় বছরে দখল ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বেহাত হচ্ছে বিঘার বিঘা বনভূমি।
গাজীপুর সদর উপজেলার শিল্প এলাকা শিরিরচালার ইভিন্স টেক্সটাইল লিমিটেডের পশ্চিম পাশে সিএস ২৫৪ নং দাগের ১৫ শতাংশ বনভূমি কিনেছেন নজরুল ইসলাম। সেখানে তিনি প্রায় দুই মাস আগে তিন রুমের পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

বনভূমিতে নজরুল ইসলামের নবনির্মিত বাড়ি
নজরুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ শতাংশ বনভূমি কিনেছেন বাঘের বাজারের এক ফার্মেসি ব্যবসায়ী। নজরুল ইসলাম বাড়ি করার সময় তিনিও ছয় রুমের পাকা বাড়ি নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন।
নজরুল ইসলামের দখলকৃত ও বিক্রীত বনভূমির স্থানীয় বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। যোগসাজশ থাকায় বিট কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি।
বাঘের বাজার এলাকার কাজী হসপিটালের সামনে সিএস ৬৭৫ নং দাগের বনভূমিতে সম্প্রতি চার রুমের পাকা মার্কেট নির্মাণ করেছেন ফায়ার সার্ভিসের সাবেক কর্মকর্তা মজিবুর রহমান। বিট কর্মকর্তার অনুমতি না থাকায় প্রথমে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুদিন পর অনুমতি নিয়ে তিনি নির্বিঘ্নে কাজ সম্পন্ন করেন। বাজার এলাকা হওয়ায় তার দখলকৃত বনভূমির মূল্য অন্তত ৪০ লাখ টাকা।
শিরিরচালা এলাকার কেনুপাড়ায় মসজিদের উত্তর দিকে সিএস ২২২ নং দাগের বনভূমি কিনেছেন স্থানীয় শরিফের বাড়ির এক ভাড়াটিয়া। সেখানে দুই রুমের পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।

কেনুপাড়ায় বনভূমি কিনে নির্মাণাধীন বাড়ি
সিংড়াতলী সড়কের গেসুর মোড় থেকে বাদশাহী সড়কের অল্প দক্ষিণে ৯ শতাংশ বনভূমি দখল করে ১১ রুমের পাকা বাড়ি নির্মাণ করছেন কামাল হোসেন। তিনি কাজীপাড়ার বন থেকে ১১টি তালগাছ কেটে বাড়ির কাঠও চেরাই করেছেন।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মেম্বারবাড়ী এলাকার স্বপ্ন সুপারশপের পশ্চিম পাশে সিএস ৬৪৯ নং দাগের বনভূমি। সেখানকার ৫ শতাংশ বনভূমি দখল করে চার রুমের পাকা বাড়ি নির্মাণ করছেন মৃত আবদুল গফুরের ছেলে সাইম। তার দখলকৃত বনভূমির স্থানীয় বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।

স্বপ্নের পেছনে বনভূমিতে নির্মাণাধীন সাইমের বাড়ি
বানিয়ারচালা এলাকার ইউসুফ হাজির বাড়ির উত্তর পাশে সিএস ৭৬৭ নং দাগের ৫ শতাংশ বনভূমি দখল করে চার রুমের পাকা বাড়ি নির্মাণ করছেন আনসার উদ্দিন। বাড়িটির কাজ প্রায় লিন্টেল পর্যন্ত ওঠে গেছে।
ভৌড়াঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণে প্রায় দুই মাস আগে প্রায় আধা বিঘা বনভূমি দখল করেছেন দুলাল মিয়া। সেখানে ছয় রুমের বাড়ি নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তার দখলকৃত বনভূমির স্থানীয় বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বড় বড় কাজের চুক্তি বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন নিজে করেন। অন্যগুলো বনপ্রহরী শাহজাহান আলী, মিজানুর রহমান ও জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট রবি দাস দেখেন। স্থাপনাভেদে ৫০ হাজার টাকা থেকে কয়েক লাখ টাকা নেওয়া হয়। এসব এখন ওপেন সিক্রেট।
অব্যাহত দখল প্রসঙ্গে বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ঘটনার আড়ালের কাছে দাবি করেন, কোথাও দখলের খবর পেলে তারা গিয়ে বাধা দেন। যারা কথা শোনে না, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। লেনদেনের কোনো বিষয় নেই।
আরও পড়ুন : গাজীপুরের ভবানীপুর বিটে বনভূমিতে ভবন ও রেস্ট হাউজ নির্মাণ করছে ইভিন্স গ্রুপ!



