কাপাসিয়া এসিল্যান্ড অফিসে দুর্নীতির উৎসব, শিব্বির সিন্ডিকেট বহাল তবিয়তে

ঘটনার আড়ালে প্রতিবেদন : গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে সিন্ডিকেট দুর্নীতির দাপট আরও বেড়েছে। ঘটনার আড়ালে-তে কয়েকটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এমনকি ঘটনার আড়ালে-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসনকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা দৃশ্যমান হচ্ছে না। ফলে জনসাধারণকে পোহাতে হচ্ছে ব্যাপক হয়রানি ও ভোগান্তি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুল হক গত বছরের ২৫ আগস্ট যোগদান করেন। যোগ দিয়েই তিনি বাণিজ্যে মনোযোগী হন। জমির নামজারি ও জমাভাগসহ বিভিন্ন সেবায় বাড়ানো হয় ঘুষের রেট। নাজির শিব্বির আহমেদ নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের তৎপরতায় তা দ্রুত বাস্তবায়ন হয়।

কাপাসিয়ায় আটটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে ১১টি ইউনিয়নের ভূমিসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অফিসগুলো থেকে বর্তমানে মাসে গড়ে ৯০০ নামজারির প্রস্তাব উপজেলা ভূমি অফিসে জমা হয়। প্রস্তাবগুলো থেকে গড়ে ৭০০ নথি অনুমোদন হয়। বেশির ভাগ নথিতে লেনদেন হয়।

উপজেলা ভূমি অফিসে বর্তমানে নামজারিতে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত তিন হাজার টাকা, ৭০ শতাংশ থেকে এক একর পর্যন্ত ছয় হাজার টাকা, এক একর থেকে দেড় একর পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা ও দেড় একর থেকে দুই একর পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। জমির পরিমাণ বেশি হলে ঘুষের রেট কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বন্দোবস্তকৃত দেড় একর জমির ক্ষেত্রে দিতে হয় ৫০ হাজার টাকা। আর কাগজপত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা। টাকা না পেলে নানা কারণ দেখিয়ে আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। এ ছাড়া ফাইল বড় হলে নির্ধারিত রেটের বাইরে টেবিলে টেবিলে টাকা গুণতে হয়।

এভাবে ঘুষ আদায় ও হিসাব দেখভাল করেন নাজির শিব্বির আহমেদ এবং নামজারি সহকারী মাহবুবুর রহমান। তারা আবেদনকারীদের সঙ্গে লেনদেন করেন কম। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মচারী ও দালালদের মাধ্যমে লেনদেন বেশি হয়। এসিল্যান্ড অফিসের নৈশপ্রহরী পলাশ আগে ক্যাশিয়ার হিসেবে টাকা বুঝে রাখতেন। ঘটনার আড়ালে-তে সেটা প্রকাশ হওয়ায় এখন উমেদার নাজমাকে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসিল্যান্ড অফিসে শুধু নামজারি খাত থেকেই মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বাণিজ্য হয়। এটার কথিত নাম ‘এলআর’। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবারে তা ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়। এসিল্যান্ড বড় অংশ হাতিয়ে নেন। বাকি অংশ পদ অনুযায়ী অন্যদের মধ্যে বণ্টন হয়।

সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য : উপজেলা ভূমি অফিসের মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী মাহবুবুর রহমান ও নাজির শিব্বির আহমেদ ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি যোগদান করেন। এরপর তারা ধীরে ধীরে ঘুষ-দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন। প্রথমে সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে ছিলেন মাহবুবুর রহমান। ঘটনার আড়ালে-তে সেটা প্রকাশ হওয়ায় এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন শিব্বির আহমেদ। বাণিজ্যের স্বার্থে এসিল্যান্ডরা তাদের মদদ দিয়ে আসছেন। গত পৌনে সাত বছর ধরে দাপটের সঙ্গে চলছে রাজত্ব।

ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে সরকারি কর্মচারীদের প্রতি তিন বছর অন্তর বদলির বিধান রয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি প্রতিপালনের জন্য কর্তৃপক্ষকে বারবার নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মাহবুবুর রহমান ও শিব্বির আহমেদকে রহস্যজনক কারণে বহাল রাখা হয়েছে।

উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের বাগেরহাট মৌজার ১ নং খতিয়ানভুক্ত সিএস ৪১২ নং দাগের বিল শ্রেণির ২ একর ৯৭ শতাংশ জমি আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা ভূমি অফিসে একটি মোকদ্দমা দায়ের করা হয়। মোকদ্দমা নম্বর ৭/২০২১। পরে শুনানি শেষে তৎকালীন এসিল্যান্ড রুবাইয়া ইয়াসমিনের রায়ে সরকারের মালিকানা বহাল হয়।

মোকদ্দমার নথি উপস্থাপনকারী হিসেবে এসিল্যান্ডের আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়ে নামজারি সহকারী মাহবুবুর রহমানের ওপর। পরে মাহবুবুর রহমান বিবাদীপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পেয়ে আদেশ আর বাস্তবায়ন করেননি। এসিল্যান্ড বদলি হয়ে যাওয়ার পর তিনি নিষ্পত্তিকৃত নথি থেকে রায়ের কপিও সরিয়ে ফেলেন।

বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ উঠলে ২০২৪ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম লুৎফর রহমান নোটিশ জারি করে শুনানি গ্রহণ করেন। এতে মাহবুবুর রহমানের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ ওঠে আসে। পরে তিনি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওই বছরের ৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন। যার স্মারক নম্বর ২০২৪-৯১৫। কিন্তু গত প্রায় দুই বছরেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সিন্ডিকেটটির বেপরোয়া দুর্নীতি নিয়ে ঘটনার আড়ালে-তে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকেও জেলা প্রশাসনকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু গত কয়েক মাসেও দৃশ্যত কিছুই হয়নি।

রায়েদ ইউনিয়নের রায়েদ শেখপাড়া এলাকার শেখ মো. কামাল হোসেন গত বছর প্রায় সাড়ে ৬ একর জমির নামজারির জন্য আবেদন করেন। আবেদন নম্বর ১২৬০৬২৯১। টোক ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে প্রতিবেদন পাঠানোর পর উপজেলা ভূমি অফিসে তা আটকে দেওয়া হয়। পরে আবেদনকারী নাজির শিব্বির আহমেদের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে তিনি দুই লাখ টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় আবেদন নামঞ্জুর হয়ে যায়।

রায়েদ ইউনিয়নের দরদরিয়া এলাকায় জমি কিনে নামজারির জন্য আবেদন করেন সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও এলাকার শিল্পপতি আলম আহমেদ। আপত্তিগত কারণে তা বারবার নামঞ্জুর হলে আবেদনকারীর পক্ষে দলিল লেখক রাসেল মোল্লা উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে শিব্বির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তিনি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিন দফায় ১৩ লাখ টাকা নেন। কিন্তু সমাধান আর হয়নি। শেষে আপত্তি প্রদানকারী ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে জমির পরিমাণ কমিয়ে নামজারি সম্পন্ন করা হয়।

একজন ভূমি কর্মকর্তা বলেন, নামজারি সহকারী মাহবুবুর রহমান ও নাজির শিব্বির আহমেদ শাস্তি থেকে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আশ্রয়দাতাসহ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। নয়তো জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষা হবে না।

১৫ লাখে মিসকেস গোপন করে নামজারি : টোক ইউনিয়নের উলুসাড়া মৌজার বিরোধপূর্ণ আরএস ১৫৬ নং খতিয়ানের ৪ একর ১৪ শতাংশ জমির নামজারি বাতিলের জন্য ছাটাবর এলাকার জামাল উদ্দিন গং উপজেলা ভূমি অফিসে একটি মিসকেস করেন। মোকদ্দমা নম্বর ১০১/২০২৫।

মিসকেসটি চলমান অবস্থাতেই ওই খতিয়ানসহ কয়েকটি খতিয়ানের ৬ একর ৯২ শতাংশ জমি কিনেন ডিবিএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ। পরে তিনি নিজের নামে নামজারির জন্য আবেদন করেন। আবেদন নম্বর ১৩২৩৩১৫৫ ও নথি নম্বর ২৫৪৫/২০২৫-২৬।

গত বছরের ১২ অক্টোবর আবেদন করার পর টোক ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মজিবুর রহমান ২০ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এসিল্যান্ড নাহিদুল হক ২১ অক্টোবর নামজারি অনুমোদন করেন।

এই নামজারির আবেদনের পর ১৫ অক্টোবর চলমান মিসকেস গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদালতে বদলি করা হয়। বদলির জন্য আবেদন করেন ইসলামপুর এলাকার প্রতিপক্ষ ইকবাল আহম্মেদ চৌধুরী। যার বদলি মিস মোকদ্দমা নম্বর ৪২/২০২৫।

নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, আলোচিত মিসকেস এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। মিসকেসের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় নামজারি অনুমোদন করা হয়েছে। আবেদন থেকে অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় নেওয়া হয়েছে মাত্র এক সপ্তাহ।

ভূমি অফিসের একটি সূত্র জানায়, তর্কিত জমির নামজারির জন্য ওই পক্ষ নাজির শিব্বির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে শিব্বির আহমেদ এসিল্যান্ড নাহিদুল হকের সঙ্গে কথা বলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ পুরো দায়িত্ব নেন। এতে ১৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ।

টোক ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মজিবুর রহমান ঘটনার আড়ালে-কে বলেছেন, মিসকেসের বিষয়টি রেজিস্টারে লেখা ছিল না। হয়তো ডিবিএলের লোকজনের তদবির ছিল।

ডিমারকেশন বাণিজ্য : উপজেলা ভূমি অফিসে সরকারি জমির সঙ্গে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি বা পার্ট দাগের জমির সীমানা নির্ধারণী মোকদ্দমায় বিভিন্ন হারে ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ না দিলে মোকদ্দমা ঝুলে থাকে বছরের পর বছর। ব্যাহত হয় সেবাপ্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।

রায়েদ ইউনিয়নের দরদরিয়া এলাকায় বন বিভাগের সঙ্গে ৬ একর ২৭ শতাংশ জমির ডিমারকেশনের জন্য ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আবেদন করা হয়। পরে তা উপজেলা ভূমি অফিসে পাঠানো হয়। টোক ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বন বিভাগ থেকে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। সব পক্ষে থাকার পরও এসিল্যান্ড অফিসে চুক্তি না করায় অনুমোদনের প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছে।

আবেদনকারীর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছিলেন ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ। তিনি আগের সার্ভেয়ার ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে চেইনম্যান নাসির হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। পরে চেইনম্যান নাসির হোসেন অফিসের বাইরে চায়ের দোকানে গিয়ে তার কাছে ১২ লাখ টাকা দাবি করেন।

হারুন অর রশিদ ঘটনার আড়ালে-কে বলেন, চেইনম্যান নাসির হোসেন বলেছেন, এসিল্যান্ড অফিসে ডিমারকেশনের ফাইলে প্রতি একরে দুই লাখ টাকা করে দিতে হয়। পরে তিনি ডিমারকেশনের আশা ছেড়ে দিয়ে জমাকৃত ফাইলের ফটোকপি নেওয়ার চেষ্টা করেও পাননি। শেষে ফটোকপির জন্য নাসির হোসেনকে দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু গত চার মাসেও তাকে কপি দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে চেইনম্যান নাসির হোসেনের সঙ্গে মোবাইলে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল ধরেননি।

কড়িহাতা ইউনিয়নের ইকুরিয়া এলাকার ছোলেমা খাতুন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জমির সঙ্গে তার জমির ডিমারকেশনের জন্য আবেদন করেন। মোকদ্দমা নম্বর ১৫/২০২৫। পরে ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে সরকারি জমি বুঝে নেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ডিমারকেশন নিষ্পত্তির কোনো আদেশ হয়নি।

এই সুযোগে আবেদনকারীর প্রতিপক্ষ ভূমি অফিসের বাউন্ডারি ওয়াল সংলগ্ন তার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করছে। বাধা দিলেই বলা হয়, রাস্তার অংশ সরকারি জমি। ভূমি অফিস রাস্তার জন্য জমি রেখে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেছে। তবে আবেদনকারী পরিবার ভূমি অফিসে যোগাযোগ করলে বলা হয়, তারা মাপজোখ করে পুরো জমি বুঝে নিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেছেন। সরকারি জমি ব্যক্তিগত রাস্তার জন্য ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার আড়ালে-কে জানান, ডিমারকেশন নিষ্পত্তি হলে তারা আদেশের কপি নিয়ে জটিলতা মোকাবিলা করতে পারতেন। এসিল্যান্ড নাহিদুল হক একবার নথিতে তিন হাজার ১০০ টাকা জমা দেওয়ার কথা লিখেছিলেন। পরে ওই পাতা সরিয়ে ফেলা হয়। মূলত টাকা না দেওয়ায় তাদের ঘোরানো হচ্ছে।

গুণগান প্রচারে ৫০ হাজার : উপজেলা ভূমি অফিস ও একাধিক ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ে এরই মধ্যে ঘটনার আড়ালে-তে কয়েকটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঘটনার আড়ালের অনলাইন সংস্করণে প্রচার হয় নামজারিতে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবির ভিডিও। এতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপ ও বিতর্কের মুখে পড়েন এসিল্যান্ড নাহিদুল হক। পরে তিনি বাণিজ্য ঢাকতে তার পক্ষে মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার করার উদ্যোগ নেন।

এসিল্যান্ড নাহিদুল হককে সহযোগিতার জন্য হাত বাড়িয়ে দেন একাধিক দালাল সাংবাদিক। তারা কয়েকজনকে নিয়ে শুরু করেন গুণগান প্রচার। উপজেলা ভূমি অফিসের ঘুষ ফান্ড থেকে তাদের সম্মানী বাবদ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয় বলে ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়। ‘জনগণের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে চান এসিল্যান্ড নাহিদুল হক’ শিরোনামের সংবাদটি কয়েকটি পত্রিকা, ভুঁইফোঁড় আইপি টিভি, ভুঁইফোঁড় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ফেসবুক পেজে প্রকাশ ও প্রচার হয়।

ভুক্তভোগী ও সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, কোনো সাংবাদিক যখন দুর্নীতিগ্রস্তদের পক্ষে পেশাগতভাবে অবস্থান নেন, তখন তিনি আর সাংবাদিক থাকেন না, হয়ে যান দালাল বা চাটুকার। ওদের সামাজিকভাবে বয়কট করা উচিত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো গালগল্পে প্রভাবিত না হয়ে জনগণের স্বার্থ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে, এমনটাই প্রত্যাশা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুল হকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে একাধিকবার চেষ্টা করেছে ঘটনার আড়ালে। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।

আরও পড়ুন : কাপাসিয়া এসিল্যান্ড অফিসে সিন্ডিকেট দুর্নীতির দাপট, তদন্ত হলেও কিছুই হয় না!

আরও খবর

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker