গাজীপুরের ভবানীপুর বিটে বনভূমিতে ভবন ও রেস্ট হাউজ নির্মাণ করছে ইভিন্স গ্রুপ!
ঘটনার আড়ালে প্রতিবেদন : গাজীপুরে বনভূমি দখলে তৎপর হয়ে উঠেছে শিল্প প্রতিষ্ঠান ইভিন্স গ্রুপ। নির্মাণ করা হচ্ছে একটি চার তলা ভবন ও একটি রেস্ট হাউজ।
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ভাওয়াল রেঞ্জের ভবানীপুর বিটে গত তিন মাস ধরে চলছে এই দখলযজ্ঞ। আর্থিক যোগসাজশ থাকায় কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বিট কর্মকর্তা।
সরেজমিনে জানা যায়, গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার থেকে সিংড়াতলী সড়ক ধরে এগোলে শিরিরচালা পূর্বপাড়া এলাকায় গেসুর মোড়। মোড়ের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে বন বিভাগের নামে গেজেটভুক্ত প্রায় ১৫ শতাংশ বনভূমি প্রথমে দখলে নেয় ইভিন্স গ্রুপ। পরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের স্থানীয় এক কেয়ারটেকারের মাধ্যমে বিট অফিসে যোগাযোগ করে। বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন অনুমতি দিলে চার তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়।
ইতোমধ্যে ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভবনটির পশ্চিম পাশে কিছুদিন ধরে চলছে রেস্ট হাউজের নির্মাণকাজ। বিট অফিস তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ।
ওই স্থানে বর্তমানে বিঘাপ্রতি জমির বাজারমূল্য কমপক্ষে দুই কোটি টাকা। সে হিসাবে দখলকৃত বনভূমির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় এক কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ভবানীপুর বিটে যোগদানের পর বনভূমি দখল ব্যাপক হারে বেড়েছে। তিনি ২০১৭ সালে এই বিটে থাকাকালীন সময়েও ইভিন্স গ্রুপ বিরোধপূর্ণ অংশে কারখানা সম্প্রসারণ করেছে। এক বন সংরক্ষকের (সিএফ) আশীর্বাদ থাকায় তার কিছুই হচ্ছে না। চক্রটির বেপরোয়া কর্মকাণ্ড দেখার যেন কেউ নেই।
বনভূমি দখলের ঘটনাগুলো নিয়ে ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বেশ কয়েকবার কথা বলেছে ঘটনার আড়ালে। প্রতিবারই তিনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ এড়িয়ে যান।
এ ব্যাপারে ইভিন্স টেক্সটাইল লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি সেটা তাদের আরেক কারখানার অধীন বলে জানান। পরে সেখানকার মোবাইল নম্বর চাইলে দেবেন বললেও আর দেননি।



