গাজীপুর রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের রেকর্ড রুমে মাসে ঘুষের ৯০ লাখ টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা!

ঘটনার আড়ালে প্রতিবেদন : গাজীপুর রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের রেকর্ড রুমে ঘুষ-দুর্নীতি ঝেঁকে বসেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি প্রতিরোধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও যথাযথ তদারকি নেই।
সরেজমিনে জানা যায়, গাজীপুর রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের চতুর্থ তলায় জমির দলিলের সইমোহর নকল তোলার রেকর্ড রুম। সেবাপ্রার্থীরা নকল তুলতে তল্লাশিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ২০ টাকার কোর্ট ফি ও স্ট্যাম্প দিয়ে আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে রেকর্ড কিপারের কাছে প্রতি নকলে জমা দিতে হয় অফিস নির্ধারিত ১৩৫০ টাকা।
বর্তমান রেকর্ড কিপার হুমায়ুন কবির গত জুলাইয়ে যোগদান করেন। তার চেয়ারের পাশে বসে নকলনবিশ সামাদ, তারেক ও আমিনুল তল্লাশিকারদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। পরে রেকর্ড কিপারের কাছে হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
গাজীপুর সদর ও যুগ্ম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ রেকর্ড রুমে দৈনিক প্রায় ৫০০ নকলের আবেদন জমা পড়ে। মাসে জমাকৃত আবেদনের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১১ হাজার। নকলগুলো থেকে মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা আদায় করা হয়।
এর মধ্য থেকে রাজস্বসহ নকলপ্রতি ৫০০ টাকা নকলনবিশদের দেওয়া হয়। ৫০ টাকা যায় তল্লাশিকারক সমিতিতে। বাকি ৮০০ টাকা অফিসের হিসাবে ঘুষ হিসেবে জমা হয়। যা মাসে দাঁড়ায় প্রায় ৯০ লাখ টাকা।
এই টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা কয়েকটি স্তরে হয়। এ থেকে রেকর্ড রুমের দায়িত্বে থাকা সদর সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল বাতেন বড় অংশ হাতিয়ে নেন। রেকর্ড কিপার হুমায়ুন কবির নকলপ্রতি নেন ৪০ টাকা। বাকি টাকা কর্মচারীদের মধ্যে বিভিন্ন হারে বণ্টন হয়।
হিসাব করে দেখা গেছে, রেকর্ড কিপার হুমায়ুন কবির নকলগুলো থেকে মাসে চার লাখ টাকার বেশি বাণিজ্য করছেন। এ ছাড়া তিনি ঝামেলা সংক্রান্ত নকল সরবরাহে ১০-১৫ হাজার টাকা করে নেন।
গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল বাতেন যুগ্ম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেরও দায়িত্বে আছেন। তিনটি দপ্তরেই তার বেপরোয়া ঘুষ-দুর্নীতি চলছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের কর্মকর্তারা একবার হানা দিলেও দৃশ্যত কিছুই হয়নি।
এ ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল বাতেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আর রেকর্ড কিপার হুমায়ুন কবির কিছু জানেন না বলে ঘটনার আড়ালের কাছে দাবি করেন।
আরও পড়ুন : গাজীপুরে ‘নাক ডুবিয়ে ঘুষ খাচ্ছেন’ সাব-রেজিস্ট্রার বাতেন



