গাজীপুরে ‘বনভূমি জবর দখলকারী’ প্যারাগন পোলট্রিতে উঠছে ৪ তলা ভবন!
ঘটনার আড়ালে প্রতিবেদন : গাজীপুরে বনভূমি জবর দখলকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান প্যারাগন গ্রুপ এবার চার তলা ভবন নির্মাণ করছে। গত আড়াই মাস ধরে কাজ চললেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সরেজমিনে জানা যায়, গাজীপুর সদর উপজেলার বানিয়ারচালা ও ভবানীপুর এলাকায় প্যারাগন গ্রুপের পোলট্রি, হ্যাচারি ও ফিড মিলের উৎপাদন চলছে। পর্যায়ক্রমে পরিসর আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। নিচু জমি ভরাটের পাশাপাশি নির্মাণ করা হচ্ছে স্থাপনা।
প্যারাগন পোলট্রি লিমিটেড বন বিভাগের তালিকাভুক্ত জবর দখলকারী প্রতিষ্ঠান। এটি মাহনা ভবানীপুর মৌজার সিএস ৮৪২ ও ৩৭০ নং দাগের ৪ একর ১৬ শতাংশ বনভূমি দখল করেছে। তাতে রয়েছে টিনশেড স্থাপনা ও পাকা ভবন।
প্যারাগন গ্রুপ গত মার্চের শেষ দিকে ভবানীপুর সড়কের কালভার্টের পূর্ব পাশে প্রায় ১০ শতাংশ ভূমিতে একটি চার তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে বিট অফিসের লোকজন গিয়ে বাধা দেন। পরে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা একাধিকবার রাতের বেলা ভাওয়াল রেঞ্জের ভবানীপুর বিট অফিসে গিয়ে দেখা করেন। একপর্যায়ে অনুমতি দেওয়া হয়।
অনুমতি পেয়েই দিন-রাত কাজ চলে। ইতিমধ্যে নিচ তলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। এখন দ্বিতীয় তলার কাজ চলছে। বিট অফিসের নির্দেশনায় কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।
অথচ নিয়ম অনুযায়ী, জবর দখলকারী প্রতিষ্ঠান জোতে স্থাপনা নির্মাণ করলেও বন বিভাগের সঙ্গে বিরোধ থাকায় সীমানা নির্ধারণ করে ভূমি পৃথক করতে হবে। যৌথ ডিমারকেশন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণের কোন সুযোগ নেই। আর ডিমারকেশন অনুমোদনের পূর্বশর্ত হলো দখলকৃত বনভূমি ছেড়ে দেওয়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্যারাগন গ্রুপ দখলকৃত বনভূমি ছাড়তে আগ্রহী নয়। তাই ভিন্ন পথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নির্মাণাধীন অংশকে জোত বলা হলেও ডিমারকেশন না থাকায় তা স্পষ্ট নয়। বিট অফিস তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ।
এদিকে নির্মাণাধীন ভবনের একটু উত্তর পাশে মাটি কেটে ২০ ফুট গভীর একটি নতুন পাকা হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে গ্যাস উৎপাদনের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ব্যাপারে প্যারাগন পোলট্রির ডেপুটি ম্যানেজার মাজহারুল ইসলাম ঘটনার আড়ালে-কে বলেন, আমরা জোত জমিতে কাজ করছি। ডিমারকেশনের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ঘটনার আড়ালের কাছে দাবি করেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
প্যারাগন পোলট্রির একজন নিরাপত্তা প্রহরী জানান, ভবনটির কাজ শুরু হওয়ার পর বিট অফিসের লোকজন একাধিকবার গিয়ে বাধা দিয়েছেন। শুধু ভবনের কাজে নয়, গ্যাস উৎপাদনের পাকা হাউজ নির্মাণের সময়ও বাধা দেওয়া হয়েছে। এত কাজ গোপনে করা যায় না।
আরও পড়ুন : গাজীপুরের ভবানীপুর বিটে ‘দখল বাণিজ্য’ তুঙ্গে



