গাজীপুরে এক বিঘা বনভূমিতে গড়ে উঠছে উর্মি গ্রুপের কারখানা
ঘটনার আড়ালে প্রতিবেদন : গাজীপুরে এক বিঘা বনভূমি দখল করে উর্মি গ্রুপের কারখানার স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিরোধের বদলে বাধা দিয়েই দায় সেরেছেন বন কর্মকর্তারা।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ভাওয়াল রেঞ্জের ভবানীপুর বিটের শিরিরচালা এলাকায় গত দুই মাস ধরে এ ঘটনা ঘটছে।
সরেজমিনে জানা যায়, গাজীপুর সদর উপজেলার শিরিরচালা এলাকার সাবাহ গার্ডেনের উত্তর দিকে বাদশাহী সড়ক। সড়কটির পশ্চিম পাশে দুই যুগ আগে জমি কেনেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব এস এম মনজুরুল হান্নান খান। সেখানে দুই বছর আগে স্থাপনা নির্মাণ করে উর্মি গ্রুপের পোশাক কারখানা ওয়েভ রাইডার্স লিমিটেডের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়।
এরই মধ্যে কারখানা সংলগ্ন সিএস ৬৯৯ নং দাগের এক বিঘা বনভূমি দখল করেন মালিক। পরে ওই বনভূমিও কারখানাটির কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। গত দুই মাস আগে তাতে কারখানার দুটি শেড নির্মাণের কাজ শুরু হলে বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন গিয়ে বাধা দেন। দুই সপ্তাহ কাজ বন্ধ থাকার পর স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে বিট অফিসে কথা বলে অনুমতি নেওয়া হয়। এতে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ।
বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন কিছুদিন চিকিৎসাজনিত ছুটিতে ছিলেন। সম্প্রতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্মাণসামগ্রী জব্দ ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় কাজ অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে দখলকৃত বনভূমি ঘিরে ফেলা হয়েছে। শেড দুটির নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। বন কর্মকর্তারাই কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দিয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, ওই স্থানের জমি বেশ দামি। বর্তমানে বিঘাপ্রতি জমির বাজারমূল্য চার কোটি টাকা। সে হিসাবে দখলকৃত বনভূমির মূল্য অন্তত চার কোটি টাকা।
এ ব্যাপারে কারখানার প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ঘটনার আড়ালে-কে বলেন, তিনি নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এর পরও কাজ চললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনের অবর্তমানে জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তপন দাস কয়েকটি স্থানে বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দিয়েছেন। অফিস খরচের নামে এটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।



