গাজীপুরে আবাসিক এলাকায় অবৈধ ওয়াশিং কারখানা, দূষণে বাসিন্দারা অতিষ্ঠ
ঘটনার আড়ালে প্রতিবেদন : গাজীপুরে আবাসিক এলাকায় অবৈধ ওয়াশিং কারখানার দূষণে বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর শিববাড়ি থেকে চান্দনা চৌরাস্তা সড়কের শহীদ বরকত সরণি পার হয়ে সড়কটির দক্ষিণ পাশে নলজানি এলাকার আবাসিক ব্লক। সেখানকার মৃত্তিকা টাওয়ার ও প্লাটিনাম টাওয়ারের মাঝখানে প্রবাসী সোলায়মান হোসেনের প্লট। প্লটটিতে রয়েছে পাকা স্থাপনা।
এই স্থাপনা ভাড়া নিয়ে ওয়াশিং কারখানা স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ী মো. হিটলার। সাইনবোর্ডবিহীন কারখানাটির কাগজপত্রে নাম এইচ আর সিরাজগঞ্জ লন্ড্রি। গত সাত মাস ধরে দিন-রাত কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে চারটি মেশিনে কাপড় ওয়াশিং করে পোশাক কারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

কারখানাটির চারদিকেই আবাসিক ভবন ও বাড়িঘর। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন পশ্চিম পাশের মীর জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির ভাড়াটিয়ারা। তাদের সংখ্যা শিশুসহ অর্ধশত।
কারখানার ডাস্ট-জাতীয় বর্জ্য পশ্চিম পাশ দিয়ে নির্গত হয়। সঙ্গে রয়েছে শব্দদূষণ ও কেমিক্যালের দুর্গন্ধ। এর ফলে বাসিন্দারা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাও নিয়েছেন।
কারখানাটির সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স, কারখানা স্থাপনের অনাপত্তিপত্র, অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র-কিছুই নেই। এরপরও কারখানা পরিচালনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

কারখানার পশ্চিম পাশের বাড়ির মালিক মীর জাহাঙ্গীর আলম প্রতিকার চেয়ে গত ৫ জুলাই জেলা পরিবেশ কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেন। পরে পরিদর্শক উম্মে হাবিবা আজ জোহরা কারখানায় গিয়ে পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতীত কার্যক্রম না চালানোর নির্দেশনা দেন। কিন্তু কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
এইচ আর সিরাজগঞ্জ লন্ড্রির মালিক মো. হিটলার তার কারখানার কোনো অনুমোদন না থাকার কথা স্বীকার করে ঘটনার আড়ালে-কে বলেন, সব ছোট কারখানা এভাবেই চলে। ট্রেড লাইসেন্সের জন্য সিটি করপোরেশনে কথা হয়েছে। পরে ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হবে।
জেলা পরিবেশ কার্যালয়ের উপপরিচালক আরেফিন বাদলের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।



