কালিয়াকৈরের জাথিলা বিটে বনের গাছ পাচার চলছেই
ঘটনার আড়ালে প্রতিবেদন : গাজীপুরের কালিয়াকৈরের কাঁচিঘাটা রেঞ্জের জাথিলা বিটে সংরক্ষিত বনের গাছ পাচার ও বনভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ চলছেই।
বিষয়টির ওপর ঘটনার আড়ালের গত ১৫ জুনের সংখ্যায় ‘কালিয়াকৈরের জাথিলা বিটে বন কেটে গাছ পাচার বেড়েছে’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ফলে বিট কর্মকর্তা শাহ আলম সরকারের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। ধ্বংস হচ্ছে বনজ সম্পদ।
সরেজমিনে জানা যায়, জাথিলা বিটের বিভিন্ন এলাকায় বনের গাছ পাচার ও বনভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। বিট কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকায় ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে ঘটছে।
মজিদচালা বাজারের পশ্চিমে হান্নান ওরফে হান্নার টেক। সম্প্রতি তিনি দখল সূত্রে সেখানকার গজারি বনের শতাধিক গাছ বিক্রি করেন। পরে কয়েক দিনে গাছগুলো কেটে নেওয়া হয়।
আমতৈল এলাকার মৃত আবদুর রশিদ ফকিরের বাড়ির পাশে আকাশমনি বাগান। তার ছেলে জহিরুল বেশ কিছু গাছ বিক্রি করেছেন। এখন গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছর গজারিয়াচালা এলাকার রাসেল সিকদার তার বাড়ির পাশের গজারি বন থেকে অর্ধশত গাছ বিক্রি করেন। পরে গাছগুলো রাতের আঁধারে কেটে নেওয়া হয়।
এভাবে দখল সূত্রে আমতৈল এলাকার বাবুল মিয়া তার বাড়ির পাশের গজারি বন থেকে ১৫০টি ও আমতৈল বাজারের পূর্ব পাশের হানিফ মিয়া তার বাড়ির পাশের গজারি বন থেকে ৩০টি গাছ বিক্রি করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, বনাঞ্চল থেকে গাছগুলো কিনছেন মজিদচালা এলাকার ব্যবসায়ী আরিফ। তিনি পাইলিংয়ের জন্য গাছ সরবরাহের পাশাপাশি আমতৈল এলাকার আলহাজের সমিলে গাছ চেরাই করেও বিক্রি করেন। অবৈধ এই সমিল আগে বন্ধ ছিল। গত নির্বাচনের পর সেটা আবার চালু হয়েছে।
অপরদিকে বাঘাইর দক্ষিণপাড়া এলাকায় আকাশমনি বাগান ঘেঁষে রাবেয়ার বাড়ি। তিনি গত মাসে বাগানের অংশ দখল করে বারান্দাসহ ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ঘর নির্মাণ করেছেন। ঘরটিতে ব্যবহার করা হয়েছে রঙিন টিন।
আমতৈল এলাকার মাটি ও কাঠ ব্যবসায়ী জুমান ইতঃপূর্বে আকাশমনি বাগানের ভেতর দিয়ে প্রায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণ করেছেন। রাস্তাটি করতে গিয়ে কয়েকটি আকাশমনি ও গজারি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্পটগুলো থেকে বিট কর্মকর্তা শাহ আলম সরকার বেশ আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। বিটের ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে আছেন বনপ্রহরী নূরুল ইসলাম। রেঞ্জ কর্মকর্তাও নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
এ ব্যাপারে কাঁচিঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মঈনুল হোসাইন চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল ধরেননি।
আরও পড়ুন : কালিয়াকৈরের জাথিলা বিটে ‘ফরেস্টারের যোগসাজশে’ বন কেটে গাছ পাচার!



