ভালুকার কাদিগড় বিট কর্মকর্তা জলিলুরের গাছ পাচার ও দখল বাণিজ্যে তোলপাড়
ঘটনার আড়ালে প্রতিবেদন : ময়মনসিংহ বন বিভাগের ভালুকা রেঞ্জের কাদিগড় বিট কর্মকর্তা জলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে বনের গাছ পাচার ও দখল বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
একটি ঘটনায় তাকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও থামছে না দৌরাত্ম্য।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাদিগড় বিটের পাড়াগাঁও মৌজার সিএস ৩৪৯ নং দাগের গেজেটভুক্ত ভূমি ২০ ধারা ঘোষিত সংরক্ষিত বনভূমি। সেখানে রয়েছে গজারি বন। বনটি স্থানীয় আবদুল মতিন দখল করে রাখেন। ইতোমধ্যে তিনি বনের একাংশ জামিরদিয়া এলাকার আলাদিন আল আজাদ মান্নানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।
পরে মান্নান প্রায় অর্ধশত মূল্যবান গাছ বিক্রি করে দেন। সম্প্রতি গাছগুলো প্রকাশ্যে কেটে পাচার করা হয়। বিট কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের যোগসাজশ থাকায় কোনো সমস্যা হয়নি।
একপর্যায়ে ঘটনাটি জানাজানি হলে সহকারী বন সংরক্ষক সাদেকুল ইসলাম খান গত ৭ জুন সরেজমিনে তদন্ত করেন। পরে বিট কর্মকর্তা তড়িঘড়ি করে ‘ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে’ দেখাতে ব্যাক ডেটে অর্থাৎ তারিখ ১ জুন দেখিয়ে একটি পিওআর মামলা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিট কর্মকর্তা মামলায় গাছ জব্দ দেখাতে আরেক দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি কাদিগড় জাতীয় উদ্যান থেকে কর্তনকৃত গাছের টুকরো এনে জব্দ দেখিয়েছেন। যেগুলোর সঙ্গে ঘটনাস্থলের মোথাগুলোর বেড়ের মিল নেই।
এদিকে গাছ পাচারের ঘটনায় বিট কর্মকর্তা জলিলুর রহমান ও বিটের পাঁচ কর্মচারীর কাছে কৈফিয়ত তলব করেছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম। কর্মচারীরা হলেন বনপ্রহরী নিজাম উদ্দিন, হেদায়েতুল ইসলাম, জয় প্রকাশ রমন রায়, বাগানমালি দেলোয়ার হোসেন ও জসিম মোল্লা।
গত ৯ জুন স্বাক্ষরিত কৈফিয়ত পত্রে বলা হয়, কর্তনকৃত শাল গাছগুলোর মোথার অধিকাংশেরই কর্তনকাল এক সপ্তাহের মধ্যে। ৪১টি গাছ কর্তন করা হলেও তারা দায়িত্ব সঠিকভাবে প্রতিপালন না করে গাছ চোরদের সঙ্গে যোগসাজশে বনজ সম্পদ অন্যত্র পাচার করেছেন। এতে বিট এলাকায় তথা বন বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নসহ বনভূমি তথা বনজ সম্পদের মারাত্মকভাবে ক্ষতি হয়েছে। এহেন কার্যকলাপে সরকারি দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা, অবহেলা ও দুর্নীতির প্রমাণ মেলে।
বিট কর্মকর্তা জলিলুর রহমান গত বছরের ১৮ এপ্রিল কাদিগড় বিটে যোগদান করেন। তিনি যোগ দিয়েই বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন স্থান থেকে গাছ পাচারের পাশাপাশি বনভূমি দখলও বাড়তে থাকে।
বিট অফিসের পাশে সিএস ৫১১ নং দাগের আকাশমনি বাগানের কিছু গাছ কেটে বাড়ি নির্মাণ করছিলেন আজিজুল ইসলাম। কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন বনাঞ্চল পরিদর্শনের সময় সেটা চোখে পড়লে তিনি কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। পরে বিট কর্মকর্তাকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়।
গৌরীপুর উত্তরপাড়া এলাকায় সিএস ৩৩০ নং দাগের বনভূমি দখল করে ফাউন্ডেশন ও টিনশেড বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন মোহাম্মদ আলী ও জমির উদ্দিন। অভিযোগ ওঠায় বিট অফিসের লোকজন গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। তবে স্থাপনা অপসারণ কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে বিট কর্মকর্তা জলিলুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার আড়ালে-কে বলেন, শোকজের চিঠি আপনার কাছে যাবে কেন? যে মাধ্যম থেকে পেয়েছেন, ওই মাধ্যম থেকে তথ্য নেন।



