গাজীপুরের মনিপুর বিটে ‘বনখেকো’ মালেক ও তালেবের তাণ্ডব

ঘটনার আড়ালে প্রতিবেদন : গাজীপুরে আকাশমনি বাগান উজাড় করে বনভূমি দখল করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হচ্ছে স্থাপনা। ভাড়া দিয়ে চলছে ব্যবসা।

রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের মনিপুর বিটের কাতলামারা ও নয়াপাড়া এলাকায় এই ধ্বংসযজ্ঞ চললেও বন কর্মকর্তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। এর নেপথ্যে আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ।

সরেজমিনে জানা যায়, হোতাপাড়া এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে পশ্চিম দিকে কাতলামারা। আশপাশে শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকায় ভাড়ার চাহিদা অনেক। এ জন্য কিছু লোক সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বাড়িঘর ও দোকানপাট নির্মাণ করেন। ভাড়া দিয়ে মাস শেষে তোলেন টাকা।

এমনই একজন হলেন আবদুল মালেক। তার পৈতৃক বাড়ি কাপাসিয়ায়। তিনি বেশ কয়েক বছর আগে স্থানীয় আবদুল আজিজের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি কিনে তিন রুমের বাড়ি করেন। পরে তার বাড়ি সংলগ্ন আকাশমনি বাগানে নজর দেন। ধীরে ধীরে গাছ কেটে বাগানের ভূমি দখলে নিতে থাকেন।

আবদুল মালেক ইতোমধ্যে অন্তত ১৫ শতাংশ বনভূমি দখল করেছেন। দখলকৃত বনভূমিতে নির্মাণ করা হয়েছে ১০টি পাকা রুম। এতে বিনষ্ট হয়েছে প্রায় অর্ধশত গাছ। আরও গাছপালা হুমকির মুখে রয়েছে।

আবদুল মালেক গত তিন মাস আগে তিনটি রুম ও একটি দোকান নির্মাণের কাজ শুরু করলে ওপর মহলে অভিযোগ যায়। পরে বিট অফিসের লোকজন গিয়ে স্থাপনার বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেন। কিছুদিন পর কাজ শুরু হলে আবারও ভেঙে দেওয়া হয়। এভাবে দুবার ভাঙার পর শেষে বিট কর্মকর্তা কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দেন। দোকানটিতে তিনি নিজে ব্যবসা করছেন।

আবদুল মালেকের দখলকৃত বনভূমির স্থানীয় বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এর ফলে বাগান উজাড় এবং বাস্তুতন্ত্র ও প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম ধ্বংসের মাধ্যমে বনের বিপুল পরিমাণ ক্ষতিসাধন হয়েছে।

অভিযুক্ত আবদুল মালেক ঘটনার আড়ালে-কে বলেন, তিনি বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। বিট অফিসের সঙ্গে তার এক আত্মীয়ের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তিনি সহযোগিতা করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বাগানটি আট বছর আগে সৃজন করে ঢাকা বন বিভাগ। প্লটের উপকারভোগী নির্বাচিত হন পার্শ্ববর্তী মনিপুর গিলাগাছিয়া এলাকার নূরুল ইসলাম। তিনি চেষ্টা করেও বাগান রক্ষা করতে পারছেন না।

উপকারভোগী নূরুল ইসলাম ঘটনার আড়ালে-কে বলেন, আবদুল মালেক গাছ কেটে ও মোথা তুলে বাগান দখল করছেন। তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। বিট অফিস কিছুই করছে না।

আবু তালেবের বনদস্যুতা : নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু তালেব। তিনি কেমিকন কারখানার পূর্ব পাশে প্রথমে প্রায় ১০ শতাংশ সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে দোকান নির্মাণ করেন। সেখানে মেসার্স রীমা এন্টারপ্রাইজ নামে কয়েক বছর ধরে রড-সিমেন্ট ও ইট-বালুর ব্যবসা চলছে।

আবু তালেবের বাড়ির দক্ষিণ পাশে আকাশমনি বাগান। ধীরে ধীরে বাগান বিনষ্ট করে প্রায় ১৫ শতাংশ দখলে নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের কয়েক মাস পর তিনি স্থাপনা আরও বাড়ান। আকাশমনি বাগানের অংশে নির্মাণ করেন একটি পাকা মার্কেট। পরে মার্কেটের দোকানগুলো এক টাইলস ব্যবসায়ীর কাছে গোডাউন হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়।

আকাশমনি বাগান বিনষ্ট করে আবু তালেবের মার্কেট

আবু তালেব এভাবে দুই স্থানে প্রায় ২৫ শতাংশ বনভূমি দখলে নিয়েছেন। যার স্থানীয় বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ টাকা। তিনি আরও বনভূমি দখলের পাঁয়তারা করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবু তালেবের বিরুদ্ধে বেশ কয়েক বছর আগে একটি বন মামলা হয়েছিল। এর পর থেকে তিনি বিট অফিসের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। ইতঃপূর্বে আশপাশে উচ্ছেদ অভিযান হলেও তার স্থাপনার কিছুই হয়নি।

অভিযুক্ত আবু তালেব সাংবাদিক শুনলেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি কোনো কিছুর পরোয়া করেন না বলে হুঙ্কার দেন।

এ ব্যাপারে মনিপুর বিট কর্মকর্তা আবদুল মান্নানের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল ধরেননি।

আরও খবর

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker