কালিয়াকৈর ও কাঁচিঘাটা রেঞ্জে ‘বন কেটে মাটি ব্যবসা’ জমজমাট
নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মাটি কেটে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে বন ও পরিবেশ।
বিষয়টির ওপর ইতিমধ্যে ঘটনার আড়ালে-তে দুটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও তাদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হচ্ছে না। রাত হলেই পাচার হচ্ছে শত শত ট্রাক মাটি।
সরেজমিনে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মাটির চাহিদা বেশি। শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মালিকানাধীন নিচু জমি ভরাটের পাশাপাশি ইটভাটায়ও মাটি সরবরাহ করা হয়। কতিপয় মাটি ব্যবসায়ী জোত জমির মাটি কাটতে গিয়ে সংলগ্ন বনভূমি কেটে নিচ্ছেন।
ঢাকা বন বিভাগের কালিয়াকৈর ও কাঁচিঘাটা উভয় রেঞ্জে এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চলছে। বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ থাকায় অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
কালিয়াকৈর রেঞ্জের রঘুনাথপুর বিটের কাঁথাচোরা এলাকার বঙ্গবাজারের পশ্চিম পাশে মাছের খামারের জন্য অন্তত তিন বিঘা কৃষি জমির মাটি বিক্রি করেছেন মো. ছায়েদ। স্পটটির উত্তর ও দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে গজারি বন। বন বিভাগের সঙ্গে তার ডিমারকেশন ও জমির শ্রেণি পরিবর্তন সংক্রান্ত অনুমতি নেই।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রুবেলের নেতৃত্বে গত মাসে সেখানে ভেকু দিয়ে গভীর করে মাটি কাটা শুরু হয়। তার সঙ্গে আছেন নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ী হাসান। ডাম্প ট্রাক চলাচলের জন্য আকাশমনি বাগানের ভেতর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা। বেশ কিছু বনভূমি থেকেও মাটি কাটা হয়েছে।
ছায়েদের স্পটের দক্ষিণ দিকে নয়াপাড়া নবজাগরণ ক্লাবের পশ্চিম পাশে মাছের খামার করছেন নূরুল ইসলাম। তিনি ওই ব্যবসায়ীদের কাছে পাঁচ বিঘা জমির মাটি বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে কমপক্ষে এক বিঘা বনভূমি।
স্পটটির পূর্ব পাশে আকাশমনি বাগান। নূরুল ইসলাম খামার বড় করার উদ্দেশে শতাধিক আকাশমনি গাছ তুলে ফেলেছেন। মাটি ব্যবসায়ীরা সম্প্রতি বাগানের উজাড়কৃত অংশ কেটে নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রঘুনাথপুর বিট কর্মকর্তা শাহ জালালকে ম্যানেজ করেই এসব ঘটনা ঘটছে। প্রতি রাতের জন্য স্পটপ্রতি তাকে ২০ হাজার টাকা করে দিতে হয়। ঘটনার আড়ালে-তে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওপর মহলের কথা বলেও টাকা নেওয়া হচ্ছে।
রামচন্দ্রপুর স্কুলের পশ্চিমে বনের মাটি কেটে নেওয়ার চিত্র
কাঁচিঘাটা রেঞ্জের খলিশাজানি বিটের রামচন্দ্রপুর স্কুলের পশ্চিমে বিএমটিএফের পাশে মাছের খামার করছেন শরীফ হোসেন। স্পটটির চারপাশে বন। মাটি পরিবহনের জন্য পশ্চিম পাশের আকাশমনি বাগানের ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে জোতের সঙ্গে বনভূমির অনেক মাটি কাটা হয়েছে। ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে সংলগ্ন গজারি বন।
এ ছাড়া রামচন্দ্রপুর এলাকার মুফা মার্কেটের উত্তর পাশে মাছের খামার করছেন ইয়ার উদ্দিন সিকদার। স্পটটির পূর্ব ও পশ্চিম পাশ ঘেঁষে বন। সেখানেও মাটি পরিবহনের জন্য আকাশমনি বাগানের ভেতর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা।
এই দুটি স্পট থেকেও মাটি কিনেছেন রুবেল ও হাসান। বিট অফিসে প্রতি রাতের জন্য স্পটপ্রতি দেওয়া হচ্ছে ২০ হাজার টাকা।
এ ব্যাপারে কাঁচিঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বিট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
পরে খলিশাজানি বিট কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বনের মাটি কাটা হচ্ছে না দাবি করে ঘটনার আড়ালে-কে বলেন, তাদের ডিমারকেশন নেই। রাজনৈতিক কারণে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, আইনে সরকারি বন ঘেঁষে গভীর পুকুর বা খামার খননের কোন সুযোগ নেই। এটা টেকসই বন ব্যবস্থাপনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সোচ্চার হওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন : কালিয়াকৈরের রঘুনাথপুর বিটে ‘রক্ষকদের সহায়তায়’ বন কেটে মাটি বিক্রি!