কালিয়াকৈরের জাথিলা বিটে ‘ফরেস্টারের যোগসাজশে’ বন কেটে গাছ পাচার!
ঘটনার আড়ালে প্রতিবেদন : গাজীপুরের কালিয়াকৈরের কাঁচিঘাটা রেঞ্জের জাথিলা বিটে বনভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ ও বনের গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। বিট কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব ঘটছে বলে অভিযোগ।
সরেজমিনে জানা যায়, জাথিলা বিটের বিভিন্ন এলাকায় বনভূমি দখল করে বাড়িঘর ও দোকানপাট গড়ে উঠছে। পাচার করা হচ্ছে সংরক্ষিত বনের গাছ। বর্তমান বিট কর্মকর্তা শাহ আলম সরকারের যোগদানের পর বন উজাড় বেড়েছে।
গজারিয়াচালা এলাকার রাসেল সিকদার একজন ব্যবসায়ী। তার বাড়ি বনের জমিতে। বাড়ির পশ্চিম পাশে গজারি বন। তিনি চলতি বছর দখল সূত্রে বনটি থেকে অর্ধশত গাছ বিক্রি করেন। পরে তা রাতের আঁধারে কেটে নেওয়া হয়।
রাসেল সিকদার ঘটনার আড়ালে-কে বলেন, তিনি অনেক আগে নিজে ছয়টি গাছ কেটে তার ঘরের কাজে লাগিয়েছেন। কোন গাছ বিক্রি করা হয়নি।

আমতৈলের বাবুলের বাড়ির পাশের বনে কর্তনকৃত গাছের কয়েকটি বল্লি
আমতৈল এলাকার বাবুল মিয়ার বাড়ি বনের জমিতে। তার বাড়ির আশপাশে গজারি বন। তিনি চলতি বছর দখল সূত্রে বনটি থেকে ১৫০টি গাছ বিক্রি করেছেন।
আমতৈল বাজারের পূর্ব পাশে হানিফ মিয়ার বাড়ি। তার বাড়ির পাশে গজারি বন। তিনি কিছুদিন আগে দখল সূত্রে ৩০টি গাছ বিক্রি করেছেন।
আমতৈল এলাকার জুমান মাটি ও কাঠের ব্যবসায়ী। তিনি চলতি বছর আকাশমনি বাগানের ভেতর দিয়ে প্রায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণ করেন। রাস্তাটি করতে গিয়ে কয়েকটি আকাশমনি ও গজারি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তার বাড়ির দক্ষিণ পাশে ভরাট করা হয়েছে নিচু বনভূমি। ইতিপূর্বে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি রুম।

আমতৈলে বাগানের ক্ষতিসাধন করে জুমানের বাড়ির নবনির্মিত রাস্তা
জুমান ঘটনার আড়ালে-কে বলেন, তার বাড়িসহ আশপাশের জমি গেজেটভুক্ত বনভূমি। তিনি ডিমারকেশন করে বনসহ সামনের অংশ নিতে চান। কিন্তু বন বিভাগের লোকজন তাকে অন্য দিক দিয়ে দিতে চায়।
বন দিয়ে রাস্তা নির্মাণ প্রসঙ্গে জুমান বলেন, সেখান দিয়ে আগে পায়ে হাঁটার পথ ছিল। এখন প্রয়োজন হওয়ায় রাস্তা করা হয়েছে। কোনো গাছ কাটা হয়নি।
এলাকাবাসী জানান, ওই স্পটগুলো থেকে গাছগুলো কিনেছেন মজিদচালা এলাকার ব্যবসায়ী আরিফ। তিনি আমতৈল এলাকার আলহাজের সমিলে অনেক গাছ চেরাই করে বিক্রি করেন। অবৈধ এই সমিল আগে বন্ধ ছিল। গত নির্বাচনের পর সেটা আবার চালু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিট কর্মকর্তা শাহ আলম সরকারের বন রক্ষার চেয়ে টাকায় নজর বেশি। তাকে টাকা দিলে দখল বা পাচার সবই করা যায়। বনপ্রহরী নূরুল ইসলাম ক্যাশিয়ার হিসেবে টাকা বুঝে নেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বাবুল মিয়া ও আরিফের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিট কর্মকর্তা শাহ আলম সরকারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগগুলো সঠিক নয় বলে দাবি করেন।
আরও পড়ুন : কালিয়াকৈরের জাথিলা বিটে বাড়ছে দখল বাণিজ্য, উজাড় হচ্ছে বন



